এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়াঃ

মানবিকতা, সহমর্মিতা, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা ও নিঃস্বার্থভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো গুণগুলো সমাজে খুব সহজে দেখা যায় না। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের কষ্টকে নিজের কষ্ট হিসেবে অনুভব করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসা—এসব মহৎ গুণের অনন্য সমন্বয় ঘটেছে মোঃ মতিয়ার রহমান মতির মধ্যে। ‘মানবদরদী’, ‘মানবিক’, ‘দানশীল’—এমন সব উপমা যেন তাকেই মানায়।
মোঃ মতিয়ার রহমান মতি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ১১ নম্বর দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য। একই সঙ্গে তিনি দক্ষিণপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় যেমন তিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে ছিলেন, তেমনি বর্তমানে জনপ্রতিনিধির দায়িত্বে না থাকলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সেই আত্মিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ অটুট রয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকার কোনো মানুষ বিপদে পড়লে বা অসহায় অবস্থায় থাকলে মতিয়ার রহমান মতি সাধ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। কারও চিকিৎসার প্রয়োজন, কারও পরিবারের আর্থিক সংকট, কারও সন্তানদের পড়াশোনার সমস্যা কিংবা কোনো অসহায় পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন—বিষয়টি তার নজরে এলে তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। অনেক সময় প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেই তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ান বলে জানান স্থানীয়রা।
তার মানবিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে তিনি মানুষের পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা সামর্থ্যের পার্থক্যকে বড় করে দেখেন না। একজন অসহায় মানুষ যখন সহযোগিতার প্রত্যাশায় তার কাছে আসেন, তখন তার সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করেন। এরপর নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন।
সাবেক ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন তিনি। রাস্তা, যোগাযোগ, সামাজিক সমস্যা, অসহায় মানুষের সহযোগিতা কিংবা স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে তিনি মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন। জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শেষ হলেও মানুষের প্রতি তার দায়িত্ববোধ কমেনি—বরং সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
মতিয়ার রহমান মতির ব্যক্তিত্বের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তার সহজ-সরল ও আন্তরিক আচরণ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারেন তিনি। এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান এবং তরুণদের প্রতি উৎসাহ তার সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। কোনো মানুষ তার কাছে ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে এলে তাকে নিরাশ না করার চেষ্টা করেন—এমন কথাও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মতিয়ার রহমান মতি শুধু একজন সাবেক ইউপি সদস্য নন, তিনি মানুষের সুখ-দুঃখের একজন আপনজন। তার কাছে গেলে অন্তত সমস্যাটি মনোযোগ দিয়ে শোনার মতো একজন মানুষ পাওয়া যায়। সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করায় এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছে তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
রাজনীতির ক্ষেত্রেও মতিয়ার রহমান মতি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। দক্ষিণপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছেন তিনি। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডকেও তিনি গুরুত্ব দেন। তার মতে, মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পাওয়াটাই বড় বিষয়। মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়াতে পারলে সেটিই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন।
তিনি মনে করেন, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজে বৈষম্য অনেকটাই কমানো সম্ভব। শুধু অর্থ দিয়ে নয়—একজন বিপদগ্রস্ত মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাকে সাহস দেওয়া, প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা এবং সমস্যার সমাধানে সহযোগিতা করাও মানবিকতার অংশ।
মতিয়ার রহমান মতির জীবনযাত্রা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের দিকে তাকালে ‘মানবদরদী’, ‘মানবিক’ ও ‘দানশীল’—এই শব্দগুলো যেন তার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মিশে যায়। কারণ মানবিকতার প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই প্রকাশ পায়, যখন কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই একজন মানুষ আরেকজন মানুষের পাশে দাঁড়ান। আর সেই জায়গাতেই নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নের সাবেক এই ইউপি সদস্য।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মতিয়ার রহমান মতি ভবিষ্যতেও তার মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবেন। সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি মানবিকতার যে দৃষ্টান্ত তৈরি করছেন, তা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। মানুষের জন্য কাজ করার এই মানসিকতা আরও বিস্তৃত হলে দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নের সামাজিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে—এমনটাই মনে করেন এলাকার সচেতন মহল।
মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন কোনো পদ-পদবি দিয়ে সম্ভব নয়; মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়িয়েই তা অর্জন করতে হয়। আর সেই পরীক্ষায় নিজের জায়গা করে নেওয়া মোঃ মতিয়ার রহমান মতি যেন সত্যিই মানবিকতার এক পরিচিত মুখ—যার কাছে মানুষের কষ্টই সবচেয়ে বড় পরিচয়, আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
