জলবায়ু অভিযোজনে বিশাল আর্থিক ঘাটতি: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বড় ফারাক

বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৮ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকার বিশাল বিনিয়োগ প্রয়োজন। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার আওতায় ১১৩টি উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮৫০ কোটি ডলার দরকার হলেও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে পাওয়া সহায়তার পরিমাণ চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। তদুপরি, বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে প্রাপ্ত সহায়তার একটি বড় অংশই আসছে ঋণ হিসেবে, যা দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর নতুন করে আর্থিক ও সুদের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের বস্তিতে সোলার পাম্প কিংবা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন প্রকল্পের মতো উদ্যোগগুলো স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সমুদ্রের বালুকণার মতো। জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো ব্যয়ের গুণগত মান এবং স্বচ্ছতা। সরকারি বাজেটে জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চাহিদার মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়ন নয়, বরং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, অনুদান নির্ভরতা বাড়ানো এবং স্থানীয় পর্যায়ের সক্ষমতা শক্তিশালী করার মাধ্যমে এই বিশাল আর্থিক সংকটের সমাধান করতে হবে।
সূত্র: প্রথম আলো
