জলবায়ু অভিযোজনে বিশাল ঘাটতি, প্রয়োজনের তুলনায় অর্থায়ন নগণ্য

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৮ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন থাকলেও, প্রাপ্ত তহবিল এবং সরকারি বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু এই বিশাল লক্ষ্য পূরণে সরকারি বাজেটের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অনুদানের পরিবর্তে ঋণের বোঝা বাড়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের নামে বিদেশি সহায়তা আসলেও তা মূল ঝুঁকি নিরসনে কতটা কার্যকর, তা নিয়েও সংশয় রয়ে গেছে।
জলবায়ু তহবিল থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু ছোট প্রকল্প মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও, সামগ্রিক চাহিদার বিপরীতে তা সিন্ধুতে বিন্দু মাত্র। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সহায়তা এখন ঋণের শর্তে আবদ্ধ, যা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর আর্থিক ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া বড় ধরনের জলবায়ু প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সুফল পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল বরাদ্দের অঙ্ক বাড়ালেই হবে না, বরং স্থানীয় পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট ও টেকসই প্রকল্প নিশ্চিত করা এবং অনুদাননির্ভর অর্থায়ন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
সূত্র: প্রথম আলো
