📰 ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু ১২ নভেম্বর মার্কিন নির্বাচনে খ্রিস্টধর্মের নতুন ও প্রগতিশীল ব্যাখ্যার জয় জর্ডানের রাজধানী আম্মানে ছুরিকাঘাতে নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত স্বপ্নপূরণের নতুন দিগন্ত: ‘রবি বোলার হান্ট’ থেকে উঠে এলো ২১ নতুন প্রতিভা নারায়ণগঞ্জের আলমাস পয়েন্টে গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ারের ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটের যাত্রা শুরু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু ১২ নভেম্বর মার্কিন নির্বাচনে খ্রিস্টধর্মের নতুন ও প্রগতিশীল ব্যাখ্যার জয় জর্ডানের রাজধানী আম্মানে ছুরিকাঘাতে নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত স্বপ্নপূরণের নতুন দিগন্ত: ‘রবি বোলার হান্ট’ থেকে উঠে এলো ২১ নতুন প্রতিভা নারায়ণগঞ্জের আলমাস পয়েন্টে গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ারের ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটের যাত্রা শুরু
শিক্ষা

সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ে কোচিং, ব্যবহৃত হচ্ছে শ্রেণিকক্ষ-বিদ্যুৎ

November 5, 2026

Spread the love

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ছুটির পর প্রাইভেট পড়ানো ও কোচিং করানো নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও তা উপেক্ষা করে ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়া আরাজী ডাঙ্গি পুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোচিং পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের ছুটির পর দুটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে। এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বিদ্যালয়ের লাইট ও ফ্যান। কোচিংয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাইরের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, ছুটির পর দুটি শ্রেণিকক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন একজন শিক্ষক। প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। পরিচয় জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক নন, বাইরে থেকে এসেছেন। তাঁর দাবি, দু-একজন ছাড়া কোচিংয়ে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সবাই বাইরের।

পরে ওই ব্যক্তি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দুলাল রব্বানীকে ফোন করেন। খবর পেয়ে তিনিও বিদ্যালয়ে আসেন। এ সময় দুলাল রব্বানী বলেন, সামনে বার্ষিক পরীক্ষা। তাই শিশুরা এদিক-সেদিক ঘুরে না বেড়িয়ে তাদের পড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুলফিকার রহমান অবগত আছেন বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০২৫ সালের ১০ মার্চ এক অফিস আদেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ছুটির পর কিংবা বন্ধের দিনে প্রাইভেট পড়ানো ও কোচিং করানো নিষিদ্ধ করে। আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়, কোনো অবস্থাতেই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ প্রাইভেট পড়ানো বা কোচিংয়ের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দায়ী থাকবেন।

অধিদপ্তরের এমন স্পষ্ট নির্দেশনার পরও কীভাবে বিদ্যালয়টিতে কোচিং কার্যক্রম চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিশুদের পাঠদানের জন্য প্রতিষ্ঠিত। সেখানে নির্ধারিত সময়ের বাইরে শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে কোচিং করানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরকারি নির্দেশনায় এ ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও কীভাবে তা চলছে, তা তাঁদের বোধগম্য নয়। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, লাইট ও ফ্যান ব্যক্তিগত বা কোচিংয়ের কাজে ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তাঁরা।

তাঁদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল সরকারি অর্থে পরিশোধ করা হয়। অথচ সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ছুটির পর কোচিং পরিচালনা করা হলে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিষয়টি তদন্ত করে কোচিং পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

উল্লেখ্য, এর আগে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুলফিকার রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। পরে তিনি ওই নোটিশের জবাব দেন বলে জানিয়েছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন।

তবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জুলফিকার রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ২৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে দ্রুত নিষ্পত্তি এবং গৃহীত ব্যবস্থা কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছিলেন, জুলফিকার রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি ওই নোটিশের জবাব দিয়েছেন। তবে বিভাগীয় মামলা করার নির্দেশসংক্রান্ত চিঠি তখনো তিনি পাননি।

এদিকে বিদ্যালয়ে কোচিং পরিচালনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুলফিকার রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই সংবাদের ফটো কার্ড বানিয়ে নিন —