দাসপ্রথা নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমা প্রার্থনার অপেক্ষায় ব্রিটেন: নতুন বিতর্কের সূচনা

ট্রান্সআটলান্টিক দাসপ্রথার সাথে ব্রিটেনের ঐতিহাসিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম জানিয়েছেন, এই দীর্ঘকালীন মানবিক ট্র্যাজেডির বিষয়ে ক্ষমা চাওয়ার দাবির বিষয়টি পর্যালোচনায় তিনি প্রস্তুত আছেন। একইসাথে কমনওয়েলথ সম্মেলনে রাজা চার্লসের পক্ষ থেকে ব্রিটেনের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট ও আন্তরিক বক্তব্যের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, এর জন্য কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের সুযোগ নেই। বিকল্প হিসেবে ক্যারিবিয়ান ও আফ্রিকান ইউনিয়নের দেশগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন তিনি।
এই রাজনৈতিক উদ্যোগের বিপরীতে বিরোধী দলগুলো একে অহেতুক মনোযোগ সরানোর কৌশল হিসেবে দেখছে। তবে ইতিহাসবিদদের মতে, ব্রিটেনের সমস্যাটি আরও গভীরে। একদিকে দেশটি নিজেদের উপনিবেশিক সাফল্য ও সম্পদ অর্জনের ইতিহাসকে গর্বের সাথে তুলে ধরে, অন্যদিকে সেই ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর হওয়া অবর্ণনীয় নিপীড়ন ও দাসব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী কুফলকে স্বীকার করতে অনাগ্রহী। এই দ্বিমুখী অবস্থান ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক অতীত ও জাতিগত বৈষম্যের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব মোকাবিলার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
