গরিবের পাম্প গেল আত্মীয়ের ঘরে, অভিযোগের তীরে প্রকৌশলী জব্বার
সমিত রায়, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজশাহীর বাগমারায় সরকারি সাবমার্সিবল পাম্প বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর পৃথক তিনটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগকারীরা হলেন- বাসুপাড়া ইউনিয়নের বালানগর গ্রামের নাজমুল হোসেন, মাড়িয়া ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ প্রামাণিক এবং ভবানীগঞ্জ পৌরসভার দানগাছি মহল্লার আক্কেল আলী প্রামাণিক। তারা গত সোমবার ও মঙ্গলবার অভিযোগগুলো দাখিল করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে বাগমারার ১৬টি ইউনিয়নের দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের জন্য সরকারিভাবে ১৯২টি সাবমার্সিবল পাম্প বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন বরগুনার এক ঠিকাদার। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকৌশলী আব্দুল জব্বার ওই ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি কিনে নিয়ে নিজের পছন্দের লোক দিয়ে বাস্তবায়ন করেছেন।
এসময় পিভিসি বোরিং থেকে শুরু করে প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ পর্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং ড্রয়িং-ডিজাইন অনুসরণ না করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পরিদর্শনের দায়িত্ব না দিয়ে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের তালিকাভুক্ত ১২০টি পাম্পের মধ্যে ২০ জনের নাম কেটে নিজের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বিতরণ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নির্বাচিত সরকার না থাকায় ইউএনওর দায়িত্বে থাকা বরাদ্দে ইউএনওর সুপারিশ উপেক্ষা করে ৮০টির বেশি পাম্প নিজের আত্মীয়দের মাঝে বিতরণের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা বলে নাজমুল হোসেন ও আব্দুল মজিদের কাছ থেকে ৭ হাজার ২০০ টাকা করে নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তাদের পাম্প দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না বলেন, “এ ঘটনায় পৃথক তিনটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত প্রকৌশলীর সঙ্গে গত বুধবার দুপুরে কথা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুল জব্বার বলেন, “স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাম্প বিতরণ করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি। টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। নাজমুল হোসেনের জন্য একটি পাম্প বরাদ্দ চেয়ে ঢাকায় চাহিদা পাঠানো হয়েছে, বরাদ্দ পেলেই তাকে দেওয়া হবে।”
