শিরোনাম :
বাঘার জে.পি উচ্চ বিদ্যালয়ে এমপি আবু সাঈদ চাঁরাজশাহীতে যুবদলের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণসাংবাদিক ‎সুরুজ আলীর মুক্তির দাবিতে রাজশাহীসীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযান: ভারতীয় ১০ মোবনাচোলে কৃষক বেশে আত্মগোপনে থাকা ২ বছরের সাজারাজশাহীর কাটাখালীতে ২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদকগোদাগাড়ীর আওয়ামীলিগের প্রভাবশালী ইউপি চেয়শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় শচাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিকতার অনন্য রূপ: ইউএন

গোদাগাড়ীর সেই তারেকের বিপুল পরিমাণ জমি ক্রোকের নির্দেশ মাদক সিন্ডিকেটের অবৈধ আয়ে বড় ধাক্কা

Spread the love

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিনিধিঃ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার এক ব্যক্তির চার দলিলভুক্ত বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক (Attach) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, রাজশাহীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ কোর্ট, রাজশাহী এই নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ক্রোকাদেশ বলবৎ থাকাবস্থায় উল্লিখিত সম্পত্তি কোনো অবস্থাতেই হস্তান্তর, বিনিময়, রূপান্তর বা দায়যুক্ত করা যাবে না।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মিস পিটিশন মামলা নং-০২/২০২৬ (আদেশের স্মারক নং-২৪০২/২৬, তারিখ: ২৩/০৫/২০২৬ ইং) এর প্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলার বাদী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জনাব মো: মেহেদী হাসান এবং অনুসন্ধান/তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জনাব চৌধুরী ইমরুল হাসান।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হলেন মো: তারেক হোসেন (৩৬), পিতা- মো: রফিকুল ইসলাম, মাতা- মোসা: মাহজুরা খাতুন। তিনি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার মাদারপুর (ওয়ার্ড নং-০৩) গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ১৪ ধারার বিধান মতে মো: তারেক হোসেনের নামে থাকা নিম্নবর্ণিত সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে:১. দলিল নং- ৭২২৬ (তারিখ: ২৪/১১/২০১৫): মৌজা- ২৫৭ নং বাজে তিরিন্দা, খতিয়ান আর এস নং- ২০, প্রস্তাবিত- ২৮, হোল্ডিং- ২৯, আর এস দাগ নং- ৫০৩৮। জমির পরিমাণ: ১০৭.২৫ শতাংশ (ক্রয় মূল্য: ১৩,২২,০০০/- টাকা)।
২. দলিল নং- ১৬৭৬ (তারিখ: ০৯/০৩/২০১৬): মৌজা- ২৫৭ নং বাজে তিরিন্দা, খতিয়ান আর এস নং- ২০, প্রস্তাবিত- ২৮, হোল্ডিং- ২৯, আর এস দাগ নং- ৫০। জমির পরিমাণ: ৫৮.৭৫ শতাংশ (ক্রয় মূল্য: ৭,২৪,০০০/- টাকা)।
৩. দলিল নং- ৬৭৫২ (তারিখ: ২০/১০/২০১৬): মৌজা- ২৫৭ নং বাজে তিরিন্দা, খতিয়ান আর এস নং- ২০, প্রস্তাবিত- ২৭, হোল্ডিং- ৩০, আর এস দাগ নং- ৫০। জমির পরিমাণ: ১১.৭৫ শতাংশ (ক্রয় মূল্য: ২,৩০,০০০/- টাকা)।
৪. দলিল নং- ৯৫০ (তারিখ: ৩১/০১/২০১৮): মৌজা- ২৫৯ নং মাছমারা, খতিয়ান আর এস নং- ৬৫, প্রস্তাবিত- ২৫৪, হোল্ডিং- ২৬২, আর এস দাগ নং- ৪৫২/৫৬০। জমির পরিমাণ: ৩৩ শতাংশ (ক্রয় মূল্য: ৮৫,০০০/- টাকা)।
তফসিলে বর্ণিত এই স্থাবর সম্পত্তিসমূহ যাতে কোনোভাবেই হস্তান্তর বা বিনিময় করা না হয়, সেজন্য জেলা রেজিস্ট্রার (রাজশাহী), সহকারী কমিশনার (ভূমি) (গোদাগাড়ী, রাজশাহী) এবং সাব-রেজিস্ট্রার (গোদাগাড়ী, রাজশাহী)-কে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জনাব মো: মেহেদী হাসান বলেন,
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতায় মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া হিসেবে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে এই ক্রোকাদেশ জারি করা হয়েছে। মাদকের সাথে জড়িত অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই তাদের অবৈধ কালো টাকা বা সম্পদ স্থানান্তর বা রূপান্তর করতে না পারে, সেজন্য আমাদের এই আইনি তৎপরতা চলমান থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভবিষ্যতেও এমন কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top