দুর্গাপুরে মাদকবিরোধী সভা, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা
রাজশাহী প্রতিনিধি: ‘মাদকমুক্ত গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ২ নম্বর কিসমতগণকৈড় ইউনিয়নে মাদক প্রতিরোধবিষয়ক জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ঝিনারমোড়ে ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে এবং ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা। সভা সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক এম.এ. মতিন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদক নির্মূলে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কেউ প্রকাশ্যে মাদকের তথ্য দিতে না পারলে গোপনে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন। তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না; প্রত্যেক অভিভাবককে নিজ নিজ সন্তানদের প্রতি নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
একটি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত দেশ গড়তে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদকের বিস্তার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু ও দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার।
এ সময় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রুস্তম মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সদস্য জারজিস হোসেন সোহেল, জেলা যুবদলের সদস্য মাহবুর রহমান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল আলিম এবং ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সোহেল বাবুসহ স্থানীয় নেতাকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সভায় বক্তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার এবং প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
