সার্বভৌমত্ব বিসর্জনের পথে বাংলাদেশ: জাতীয় আত্মমর্যাদার সংকট

বর্তমানে বাংলাদেশ এক অদৃশ্য ‘ডি-সভেরেনাইজেশন’ বা সার্বভৌমত্ব সংকোচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, কৌশলগত চুক্তি এবং কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতার কাছে রাষ্ট্র তার নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা ক্রমশ নমনীয় করে ফেলছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ—সবক্ষেত্রেই নিজস্ব স্বকীয়তার অভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ও এ বিষয়ে রাষ্ট্রের নীরবতা বা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা হস্তান্তরের মতো বিষয়গুলো জাতীয় স্বার্থের চরম অবমাননাকে নির্দেশ করে।
এই সার্বভৌমত্ব সংকোচনের প্রভাব কেবল ভূ-রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা দেশের অভ্যন্তরীণ সামাজিক কাঠামোকেও অস্থির করে তুলছে। যখন রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে বা তাদের অধিকারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়, তখন জনমনে জাতীয় গৌরববোধ লোপ পায়। পিরোজপুরের মতো ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধাদের আড়ালের চেষ্টা বা জাতীয় নীতিনির্ধারণে অন্যের নির্দেশনা মেনে নেওয়ার প্রবণতা জনগণের মধ্যে এক ধরনের নৈরাজ্যিক মনস্তত্ত্ব তৈরি করছে। দীর্ঘমেয়াদে এই আত্মমর্যাদাহীনতা সমাজকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রের নৈতিক কর্তৃত্ব ও গ্রহণযোগ্যতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
সূত্র: প্রথম আলো
