রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দাসত্ব অস্বীকার করে আজীবন আত্মগোপনে থাকা সেই মহান ইমাম

আব্বাসীয় খলিফা আবু জাফর আল-মানসুর যখন বিখ্যাত আলেম সুফিয়ান সাওরিকে কুফার বিচারপতির পদের প্রস্তাব দেন, তখন একটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন—রাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে কোনো রায় দেওয়া যাবে না। কিন্তু সত্যের প্রশ্নে আপসহীন সুফিয়ান সাওরি সেই পদ প্রত্যাখ্যান করেন। নিজের বিবেকের স্বাধীনতা বজায় রাখতে তিনি কুফা ত্যাগ করে জীবনভর আত্মগোপনে থাকার কঠিন পথ বেছে নেন। একদিকে রাষ্ট্রীয় দাপট, অন্যদিকে ইলমের মর্যাদা রক্ষার এই লড়াই তাঁকে ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে।
কুফার এক জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবারে জন্ম নেওয়া সুফিয়ান সাওরি নিজ মেধা ও সাধনায় হাদিসশাস্ত্রে অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। সমসাময়িক আলেমদের কাছে তিনি ‘আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস’ উপাধিতে ভূষিত হন। যদিও তাঁর অনুসারীদের অভাবে ‘সাওরি মাজহাব’ কালের স্রোতে বিলীন হয়ে গেছে, তবে হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের ইতিহাসে তাঁর অবদান আজও অম্লান। শাসকদের অন্যায় আবদার মেনে না নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, জ্ঞানীর স্বাধীনতা ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পার্থিব ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। ১৬১ হিজরিতে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বসরায় তাঁর কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।
সূত্র: প্রথম আলো
