শেয়ালের উপদ্রব ও মাধ্যমিকের সেই অদ্ভুত গ্রীষ্মের স্মৃতি

মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর অলস সময় কাটানো গ্রামের একঝাঁক কিশোরের জীবনে হঠাৎ করেই নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সে সময় গ্রামে নিয়মিত হাঁস-মুরগি চুরির ঘটনা বাড়তে থাকে, যা নিয়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ক্ষতির পর নড়েচড়ে বসে গ্রামবাসী। শেয়াল তাড়াতে দিনাজপুর থেকে আনা হয় এক বিশেষজ্ঞকে। সেই বিশেষজ্ঞকে সাহায্য করার জন্য মাধ্যমিক পাস না করা বারোজন কিশোরকে অবৈতনিক ইন্টার্ন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের কঠোর পরিশ্রমে তৈরি ফাঁদে ধরা পড়ে বেশ কয়েকটি শেয়াল, যা গ্রামবাসীর মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।
তবে শেয়ালের দমন অভিযানের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। শেয়ালগুলো প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে গ্রামের খেতের ফসলের ক্ষতি করতে শুরু করে। দীর্ঘস্থায়ী এই লড়াইয়ের মধ্যেই একদিন মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। ঘটনাক্রমে সেই কিশোরদের মধ্যে কেবল একজনই কৃতকার্য হয়। অবাক করা বিষয় হলো, রেজাল্ট বের হওয়ার পরপরই গ্রাম থেকে শেয়ালের উপদ্রব যেন জাদুর মতো চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা ও টানটান উত্তেজনায় ঘেরা সেই গ্রীষ্মকাল আজও স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে।
সূত্র: প্রথম আলো
