
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী কারাগারে বন্দি থেকেও বাইরে হামলার অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা করার দায়ে শেষ পর্যন্ত ফেঁসে গেলেন মামলার বাদী সাজ্জাদ হোসেন। আজ রোববার (১২ মার্চ) আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। একইসঙ্গে এই জরিমানার টাকা থেকে ভুক্তভোগী দুই আসামিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতের দেওয়া আদেশে বলা হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে জরিমানার এক লাখ টাকা পরিশোধ করে ব্যাংক চালানের কপি আদালতে জমা দিতে হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন এই অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হন, তবে তাকে এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালত আরও জানিয়েছেন, জরিমানার এই টাকা থেকে মামলার কারণে হয়রানি ও কারাভোগের শিকার দুই আসামি ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন।
মামলাটির অসারতা ধরা পড়ে যখন দেখা যায়, ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কারাগারে অবস্থান করছিলেন। কারাগারে থেকেও তারা কীভাবে বাইরে এসে হামলা চালালেন—এমন প্রশ্নের আইনি মারপ্যাঁচে অভিযোগটি ভুয়া প্রমাণিত হয়।
এ বিষয়ে সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রায়ের বিষয়টি স্বীকার করেন। মামলাটি মিথ্যা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নিজেও তখন একটি রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে ছিলাম। মামলাটি করার সময় বিষয়টি আমার স্মরণে ছিল না। যেহেতু আদালতে সব প্রমাণিত হয়েছে, তাই আমি স্বীকার করছি যে মামলাটি সঠিক ছিল না।
দীর্ঘ শুনানি ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে হয়রানি করার জন্য এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বিচারিক রায়ে বাদীর এই মিথ্যাচারের জন্য কঠোর অবস্থান নিলেন আদালত, যা মিথ্যা মামলা নিরুৎসাহিত করতে একটি নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন নাকি তাকে কারাগারে যেতে হয়।
