শিরোনাম :
দূর্গাপুরে নতুন শিল্পীদের খোঁজে শুরু হচ্ছে ‘নিয়ামতপুরে ভূমি সেবা সংক্রান্ত গণশুনানি অনুচারঘাট মডেল থানার এএসআইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তচারঘাটে নারী সহায়তা ফোরামের সঙ্গে উপজেলা প্ররাজশাহীতে র‍্যাব-৫ এর পৃথক অভিযানে ১০টি গাঁজগভীর রাতে র‍্যাবের জালে পুঠিয়ার গাঁজা চাষিশিবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে চোরাই মোবামেধাবী ও রোমাঞ্চকর জীবনসঙ্গী: সাংবাদিকের সাথবেনাপোল বন্দরের জব্দকৃত পণ্য বদলের অভিযোগ, ২.চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় বর্জ্য পৃথকীকরণ কার

পুঠিয়ায় ট্রাকের দৌরাত্ম্য, প্রাণ গেল পথচারীর, ক্ষোভে জ্বলল দুই ট্রাক, নিগৃহীত সাংবাদিক

Spread the love

মেহদী হাসান,পুঠিয়া(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ ভোরের নরম আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। তার মধ্যেই হঠাৎ কর্কশ ব্রেকের শব্দ, তারপর চিৎকার, আর মুহূর্তেই স্তব্ধ এক প্রাণ। পুঠিয়ার বিড়ালদহ মাজার সংলগ্ন ঢাকা–-রাজশাহী মহাসড়কে মঙ্গলবার সকালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল আক্কাস আলী খলিফা (৫০)এর। বাড়ি চারঘাট থানাপাড়া এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বেপরোয়া গতিতে পাশাপাশি ছুটছিল দু’টি ড্রাম ট্রাক, একপ্রকার প্রতিযোগিতাই চলছিল। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেই ট্রাকের একটির চাপায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আক্কাস আলী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনার পরেই চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যে জমে ওঠে ভিড়, থমকে যায় মহাসড়কের যান চলাচল। ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক দুই ট্রাককে আটক করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। লেলিহান আগুনে দাউ, দাউ করে জ্বলতে থাকে ট্রাক দুটি, দূর থেকে দেখা যায় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে রোষের মুখে পড়েন সাংবাদিকরাও। দৈনিক যায়যায় দিন পত্রিকার সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থলের ছবি তুলতে গেলে তাঁর মোবাইল ফোন ভেঙে দেওয়া হয়। অভিযোগ, আরও কয়েকটি মোবাইলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খবর পেয়ে পবা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা করলে তাদেরও বাধার মুখে পড়তে হয়। এমনকি একটি পুলিশ গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে। পরে পুঠিয়া থানার পুলিশ পৌঁছলেও প্রথম দিকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

শেষ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

পবা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক কাজী জানান, “খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি, কিন্তু উত্তেজিত জনতার কারণে আমাদের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।”

এই ঘটনার পর আবারও সামনে উঠেছে মহাসড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতির প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই রাস্তায় ট্রাকের দৌরাত্ম্য চলছে, কিন্তু কার্যকর নজরদারির অভাবেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি। পুঠিয়ায় এখন প্রশ্ন একটাই, আর কত প্রাণ গেলে থামবে এই দৌড়?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top