
স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজশাহীর চারঘাট মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া, নিরীহ ব্যক্তিকে মাদক মামলায় জড়ানো এবং মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. সাহাবুদ্দিন ওরফে সুমনকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করেন এএসআই জাহাঙ্গীর আলম। পরে ১০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
থানার তথ্য অনুযায়ী, সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এখনও কার্যকর রয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলার মোক্তারপুর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সাধনকে মাদক মামলায় আসামি করতে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক বিরোধের জেরে সাধনের স্ত্রী পুলিশের সহায়তা চাইলে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ১৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় টাকা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সাধনের স্ত্রী স্বপ্না খাতুন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউসুফপুর ইউনিয়নের বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাহাঙ্গীর আলম স্থানীয় মাদক কারবারিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করতেন। এমনকি দুই ঈদে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসআই জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। তবে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে মাদক কারবারিদের যোগাযোগের বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
